Al-Hadith

http://www.shorolpoth.com/

Assalamualaikum. Al hamdulillah, “banglakitab.wordpress.com” has been launched to it’s own domain as mentioned above. You all are invited to visit..!! May Allah give all of you a good return. Ameen.

আসসালামু আলাইকুম, সকল প্রশংশা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার । “banglakitab.wordpress.com” তার নিজস্ব ওয়েব সাইট এ যাত্রা শুরু করেছে, যার লিংক উপরে দেয়া আছে। আপনারা সকলে সাদরে আমন্ত্রিত । আল্লাহ আপনাদের সকল কে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন

 

* সহীহ্ বুখারী [বাংলা সহ] Sahih Bukhari [Bangla]

* ডাউনলোড –সহীহ হাদীস সফটওয়ার (বুখারী শরীফ, মুসলিম, মালিক, দাউদ) [English]– Download Sahih Hadith Software [with search options]size 7.4 mb

* রিয়াদুস সালিহিন [বাংলা] Riadus Salihin [Bangla] (pdf, right click>Save target as)

বুখারী শরীফ, মুসলিম, মালিক, দাউদ হাদীস অনলাইনে পড়ুন ও সন্ধান করুন [English]- Bukhari, Muslim, Malik,Dawud Shareef read & find in online [English]

আর রাহীকুল মখতুম /নবীর (সা:) জীবনী -Ar Rahiqul Makhtum/ Life of Prophet (Sw:)(pdf, right click>Save target as)

* হাদীসের নির্বাচিত ৩৫টি দোয়াসমূহ

* সুন্নাতের গুরুত্ব ও আইনগত মর্যাদা

* সুন্নাত নিয়ে আমাদের ভুল ধারনা সমুহ

* হিসনুল মুসলিম/Hisnul Muslim(সহীহ হাদীস থেকে সংকলীত দোয়া)

————————————–

সুন্নাহর গুরুত্ব বোঝার জন্য নিচের আয়াতগুলিই লহ্ম করি:

“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, এবং নির্দেশ মান্য কর রসূলের….”(Sura Nisa:59, Same mentioned in Al Maida:92, An-Nur:54, )

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
“নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।“(An Nur:56)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।“ (Al-Imran:31)

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
“…তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী। (At-Tauba:71)

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
“মুমিনদের বক্তব্য কেবল এ কথাই যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিকে তাদেরকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলেঃ আমরা শুনলাম ও আদেশ মান্য করলাম। তারাই সফলকাম।“(An Nur:51)

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
Narrated by Abu Huraira: Allah’s Apostle (peace be upon him) said,
All my followers will enter Paradise except those who refuse.’ They said, ‘O Allah’s Apostle! Who will refuse?’ He said, ‘Whoever obeys me will enter Paradise, and whoever disobeys me is the one who refuses (to enter it) [Bukhari Volume 9, Book 92, Number 384]
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

রাসুলুল্রাহ ( সা: ) এর যে সুন্নাহগুলি আমাদের সমাজে উপেহ্মিত.

“যুহাইর ইবনে হরব ও শায়বান ইবনে আবী শায়বাহ আনাস রা: থেক রেওয়ায়েত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেছেনঃ
কোন বান্দা সে পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না আমি তার নিকট তার পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ ও অন্যান্ন সব লোকের তুলনায় অধিক প্রিয় হব।“(মুসলিম-ঈমান পর্ব:৭৪)
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
রাসুলুল্লাহ (সা: ) বলেছেন:
মুসলিম সেই, যার হাত ও জিহবা হতে অপর মুসলমান নিরাপদ (Muslim :: Book 1 : Hadith 65 )
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি এবং পরকলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার উচিত উত্তম কথা বলা অথবা মৌনাবলম্বন করা।
আর যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি ও পরকলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার উচিত প্রতিবেশীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
যে ব্যাক্তি আল্লাহপাক ও পরকলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার উচিত মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। (মুসলিম:৭৯)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
যুহাইর ইবনে হরব (রঃ) আবু যর (রাঃ) থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন,
যে ব্যাক্তি জেনে শুনে নিজের পিতার পরিবর্তে অন্য কাকেও পিতা বলে, সে কুফরী করল। আর যে ব্যাক্তি এমন কোন কিছুর দাবী করে, যা তার নয়, সে আমার দলের নয় এবং সে যেন তার ঠিকানা দোযখ বানিয়ে নেয়। আর যে কেউ কাকেও কাফির বলে সম্বোধন করলে বা আল্লাহর শত্রু বলে ডাকলে সম্বোধনকৃত ব্যাক্তি যদি তদ্রুপ না হয়, তাহলে ঐ কুফরী, সম্বোধনকারীর প্রতি প্রত্যাবর্তীত হবে।(মুসলিম: ১২১)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
মুসলমানকে গালমন্দ করা গুনাহর কাজ এবং তার সাথে মারপিট করা কুফরী। (মুসলিম:১২৫)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেছেনঃ
সাবধান! মন্দ ধারণা হতে দূরে থাক।কেননা মন্দ ধারণা অনুমান সবচেয়ে বড় মিথ্যা। (বুখারী ও মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীন-১৫৭৪)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে একটা হাদীস বর্ণিত হয়েছে- তিনি বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাআদ (রাঃ)- এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি ওযু করছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে সাআদ অপচয় করছো কেন! সাআদ বললেন, ওযুতে কি অপচয় হয়? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, প্রবাহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো- তা অপচয়”। (ইবনে মাজাহ)।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
আবু হুরাইরাহ (রাযি) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সা বলেছেন, কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেস্ট যে, সে যা শুনে (খোঁজখবর নেয়া ছাড়াই) তাই বলে বেড়ায়। (মুসলিম ৫) -মিশকাত তাহক্কীক আলবানী হা/১৫৬
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

আবু যর রা: থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেছেনঃ
তিন ব্যাক্তির সাথে রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক কথা বলবেন না । তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। তাদের কে পবিত্র করবেন না । আর তদের জন্য রয়েছে ভীষন আযাব। রেওয়ায়েতকারী বলেন তিনি এ আয়াতটি তিনবার পড়লেন । আবু যর রা: বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ), তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হল:
যে ব্যাক্তি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে , যে ব্যাক্তি দান করে খোটা দেয় এবং যে ব্যাক্তি মিথ্যা শপথ করে মাল বিক্রি করে। (মুসলিম-ঈমান পর্ব:১৯৫)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
আল্লাহ বলেন,”আর যখন তোমাদের সালাম করা হয়, তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম উত্তর দিবে অথবা কমপক্ষে তার সমপরিমান দিবে, নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব গ্রহণ কারী।” (সূরা নিসাঃ আয়াত:86)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও।(Sura Hujurat:7)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
* নবী করিম (সাঃ) বলেছেনঃ “ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ছেড়ে দেয়া।” (মুসলিম হাঃ ১৫৪)* রুরাইদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমাদের এবং কাফিরদের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত, অতএব যে সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরী করল।” (নাসাঈ, ই.সে. হাঃ৪৬৪)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেছেনঃ সাবধান! মন্দ ধারণা হতে দূরে থাক। কেননা মন্দ ধারণা অনুমান সবচেয়ে বড় মিথ্যা। (বুখারী ও মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীন-১৫৭৪)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
রাসুলুল্লাহ (সা: ) বলেছেন:
বনি আদমের উপর ব্যভিচারের অংশ লিখিত রয়েছে, তা অবশ্যই সে পাবে । দুই চোখের ব্যভিচার হল দৃষ্টিপাত করা । দুই কানের ব্যভিচার হল শ্রবন করা। জিহবার ব্যভিচার হল বলাবলি করা। হাতের ব্যভিচার হল ধরা বা স্পর্শ করা । পায়ের ব্যভিচার হল হেটে যাওয়া । অন্তরের ব্যভিচার হল কামনা ও বাসনা করা। আর গুপ্তাঙ্গ তা বাস্তবায়িত বা অবাস্তব প্রতিপন্ন করে।(মুসলিম অনুবাদ: হাদিস:৬৫১৫)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
“কাতার সোজা করো, কাঁধের সাথে কাঁধ বরাবর করো, ফাঁক বন্ধ করো, শয়তানের জন্য কোন ফাঁক রাখবে না। যে ব্যক্তি কাতারের সংযোগ স্থাপন করে আল্লাহও তার সাথে সংযোগ স্থাপন করেন, আর যে কাতার ছিন্ন করে, আল্লাহও তার সাথে সংযোগ ছিন্ন করেন।” (আবু দাউদ, প্রগুক্ত, কিতাবুস সালাত, বাব নং ৯৫, হাদীস নং ৬৬৬, ১/১৭৮)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
“এক মুসলিম আর একজন মুসলিম এর ভাই । সে তার উপর জুলুম করে না, এবং তাকে শত্রুর হাতে সমর্পনও করে না । এবং যে তার ভাইয়ের অভাব মিটিয়ে দিবে, আল্লাহপাক তার অভাব পূরণ করে দিবেন । এবং যে ব্যাক্তি, কোন মুসলিমের বিপদ দুর করবে, আল্লাহপাক তার বিনিময়ে কেয়ামতের দিন তাকে বিপদ থেকে মুক্ত করবেন । যে ব্যাক্তি, মুসলমানের দোষত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহপাক রোজ কিয়ামতে তার দোষত্রুটি গোপন রাখবেন “(মুসলিম অনুবাদ বইয়ের : হাদীস ৬৩৪৪)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
‎”It is narrated on the authority of Abu Huraira that the Messenger of Allah (may peace and blessing be upon him) observed: He will not enter Paradise whose neighbor is not secure from his wrongful conduct.” (Muslim :: Book 1 : Hadith 74)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

**********************************************************

হাশরের ময়দানের ৫টি প্রশ্ন!:

عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ وَعَنْ عِلْمِهِ فِيمَ فَعَلَ وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ وَعَنْ جِسْمِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ

[رواه الترمذي: 2417، وقَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ]

আবূ বারযা নাদলা ইবনে উবায়েদ আসলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“কিয়ামতের দিন (হাশরের ময়দানে) বান্দাহ তার স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকবে, যে পর্যন্ত না তাকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ তার জীবনকাল কিরূপে অতিবাহিত করেছে, তার জ্ঞান কি কাজে লাগিয়েছে, তার সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করেছে এবং কিসে খরচ করেছে এবং তার শরীর কিভাবে পুরানো করেছে?”

[ইমাম তিরমিযী এ হাদীস(নং-২৪১৭) বর্ণনা করে বলেন, হাদীস টি হাসান ও সহীহ।]

প্রত্যেক অভিনব বিষয় হচ্ছে বিদ’আত, প্রত্যেক বিদ’আত হচ্ছে গোমরাহী এবং প্রত্যেক গোমরাহীর পরিণাম হচ্ছে জাহান্নামের আগুন

عَنْ أَبِي نَجِيحٍ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: “وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَوْعِظَةً وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ، وَذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! كَأَنَّهَا مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَأَوْصِنَا، قَالَ: أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ تَأَمَّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ، فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيينَ، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ؛ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ”.رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ [رقم:4607]، وَاَلتِّرْمِذِيُّ [رقم:266] وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

আবূ নাজ্জীহ্ আল-’ইরবাদ বিন সারিয়াহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বক্তৃতায় আমাদের উপদেশ দান করেন যাতে আমাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে ও আমাদের চোখে পানি এসে যায়।
আমরা নিবেদন করি: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে বিদায়কালীন উপদেশ; আপনি আমাদেরকে অসীয়াত করুন।
তিনি বললেন: “আমি তোমাদের মহান আল্লাহকে ভয় করতে অসীয়াত করছি, আর আনুগত্য দেখাতে অসীয়াত করছি; যদি কোন গোলামও তোমাদের আমীর হয় তবুও। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা অনেক মতবিরোধ দেখবে; সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের পদ্ধতি মেনে চল, তা দাঁত দিয়ে (অর্থাৎ, খুব শক্তভাবে) ধরে রাখ; আর অভিনব বিষয় সম্পর্কে সাবধান থাক, কারণ প্রত্যেক অভিনব বিষয় হচ্ছে বিদ’আত, প্রত্যেক বিদ’আত হচ্ছে গোমরাহী এবং প্রত্যেক গোমরাহীর পরিণাম হচ্ছে জাহান্নামের আগুন।”

[আবূ দাউদ(৪৬০৭) ও তিরমিযী(২৬৬) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, এটা সহীহ্ (হাসান) হাদীস।]

নামায /সালাত আদায় করা:

* নবী করিম (সাঃ) বলেছেনঃ “ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ছেড়ে দেয়া।” (মুসলিম হাঃ ১৫৪)

* রুরাইদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমাদের এবং কাফিরদের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত, অতএব যে সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরী করল।” (নাসাঈ, ই.সে. হাঃ৪৬৪)

* একদা নাবী (সাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমার কখনো ইচ্ছা হয় যে, একজনকে দিয়ে সালাত শুরু করিয়ে দেই এবং তারপর যারা সালাতে হাযির হয়না আমি পেছন দিয়ে গিয়ে তাদের ঘরে আগুন লাযিয়ে দেই। (তিরমিযী হাঃ ২০৮), মুসনাদে আহমাদের রিওয়ায়তে আছে যে, ঘরের মধ্যে যদি নারীরা ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা না থাকতো তাহলে আমি ‘ইশার সালাত শুরু করে দিয়ে যুবকদের হুকুম দিতাম যে, ঘরের মধ্যে যা কিছু আছে তা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দাও। (মিশকাত হাঃ ১০০৬)

* রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেছেন, “ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নেয়া হবে। যদি তা যথাযথ হয়, তবে সে সফল হলো এবং মুক্তি পেল। যদি তা গড়বড় হয় সে ধ্বংস হলো ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (নাসাঈ হাঃ ৪৭৫)

* নাবী (সাঃ) আরো ইরশাদ করেন, “আমি মানুষের সাথে সংগ্রাম করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত তারা স্বীকার করে নেবে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তারা সালাত কায়িম করবে।” (বুখারী, আ.প্র. হাঃ ২৪)

* আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞেসা করলাম, কোন ‘আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেনঃ ওয়াক্তমত সালাত আদায় করা, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা এবং মহামহিমাম্বিত আল্লাহর পথে জিহাদ করা।”(মুসলিম, ই.সে. হাঃ ১৬১)

প্রত্যেককেই নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে

وعن ابن عمر رضي الله عنهما ، قَالَ : سمعت رَسُول الله،    يقول: (( كُلُّكُمْ رَاعٍ ، وَكُلُّكُمْ مسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتهِ : الإمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ، والرَّجُلُ رَاعٍ في أهْلِهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ، وَالمَرْأةُ رَاعِيَةٌ في بيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا ، وَالخَادِمُ رَاعٍ في مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ )) مُتَّفَقٌ عَلَيهِ [رواه البخاري: 7/41 ( 5200 ) ، ومسلم 6/7 ( 1829 ) ( 20 )].

 ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষণাবেক্ষণকারী(বা দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুরুষ তার পরিবার ও সংসারের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও দায়িত্বপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্ত্রীলোক তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিনী এবং তাকে সে সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। খাদেম তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তাকে তার সে দায়িত্বপালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।” [বুখারী: ৭/৪১(৫২০০) ও মুসলিম: ৬/৭(১৮২৯)]

নেকী(সওয়াব) ও গোনাহের পরিচিতি

عَنْ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ: “الْبِرُّ حُسْنُ الْخُلُقِ، وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي صَدْرِك، وَكَرِهْت أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِ النَّاسُ”رَوَاهُ مُسْلِمٌ [رقم:2553].وَعَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: أَتَيْت رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ: “جِئْتَ تَسْأَلُ عَنْ الْبِرِّ؟ قُلْت: نَعَمْ. فقَالَ: استفت قلبك، الْبِرُّ مَا اطْمَأَنَّتْ إلَيْهِ النَّفْسُ، وَاطْمَأَنَّ إلَيْهِ الْقَلْبُ، وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي النَّفْسِ وَتَرَدَّدَ فِي الصَّدْرِ، وَإِنْ أَفْتَاك النَّاسُ وَأَفْتَوْك” .حَدِيثٌ حَسَنٌ، رَوَيْنَاهُ في مُسْنَدَي الْإِمَامَيْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ [رقم:4/227]، وَالدَّارِمِيّ [2/246] بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ.

আন-নওয়াস বিন সাম’আন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

“উত্তম চরিত্র হচ্ছে নেকী, আর গোনাহ্ তাকে বলে যা তোমার মনকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে এবং তা লোকে জানুক তা তুমি অপছন্দ কর।”[মুসলিম: ২৫৫৩]

ওয়াবেসা বিন মা’বাদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:
আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলে তিনি আমাকে বললেন: “তুমি কি নেকী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছ?”
আমি বলি: জী হাঁ।
তিনি বললেন: “নিজের মনকে জিজ্ঞাসা কর; যা সম্পর্কে তোমার আত্মা ও মন আশ্বস্ত থাকে তা হচ্ছে নেকী, আর গোনাহ্ হচ্ছে তা যা যদিও লোক (তার স্বপক্ষে) ফাতাওয়া দিয়ে দেয় তবুও তোমার আত্মাকে অশ্বস্তিতে রাখে ও মনে সংশয় সৃষ্টি করে।”[-এটি হচ্ছে হাসান হাদীস যা আমি দুই ইমাম আহমদ বিন হাম্বল: ৪/২২৭ ও আদ্-দারেমী: ২/২৪৬ এর মুসনাদ থেকে উৎকৃষ্ট সদনে উদ্ধৃত করেছি।]

শির্কমুক্ত হয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের প্রতিদান

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْت رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: “يَا ابْنَ آدَمَ! إِنَّكَ مَا دَعَوْتنِي وَرَجَوْتنِي غَفَرْتُ لَك عَلَى مَا كَانَ مِنْك وَلَا أُبَالِي، يَا ابْنَ آدَمَ! لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُك عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتنِي غَفَرْتُ لَك، يَا ابْنَ آدَمَ! إنَّك لَوْ أتَيْتنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتنِي لَا تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَأَتَيْتُك بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً” .

[رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ ، رقم: 3540، وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ].

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন: হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে (ক্ষমা) চাইবে, তুমি যা করেছ তা আমি ক্ষমা করে দেব- আর আমি কোন কিছুর পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গোনাহ্ যদি আকাশ সমান হয়ে যায় আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তাহলে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তুমি পৃথিবী প্রমাণ গোনাহ্ নিয়ে আমার কাছে আস এবং আমার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক না করে দেখা কর, তাহলে আমি সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সঙ্গে দেখা করবো।
[তিরমিযী (নং-৩৫৪০) এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।]

আল্লাহকে স্মরণ করলে তিনিই রক্ষা করবেন

عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ:“كُنْت خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَوْمًا، فَقَالَ: يَا غُلَامِ! إنِّي أُعَلِّمُك كَلِمَاتٍ: احْفَظْ اللَّهَ يَحْفَظْك، احْفَظْ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَك، إذَا سَأَلْت فَاسْأَلْ اللَّهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْت فَاسْتَعِنْ بِاَللَّهِ، وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوك بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوك إلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَك، وَإِنْ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوك بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوك إلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْك؛ رُفِعَتْ الْأَقْلَامُ، وَجَفَّتْ الصُّحُفُ”.[رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ: 2516] وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.وَفِي رِوَايَةِ غَيْرِ التِّرْمِذِيِّ: “احْفَظْ اللَّهَ تَجِدْهُ أمامك، تَعَرَّفْ إلَى اللَّهِ فِي الرَّخَاءِ يَعْرِفُك فِي الشِّدَّةِ، وَاعْلَمْ أَنَّ مَا أَخْطَأَك لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَك، وَمَا أَصَابَك لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَك، وَاعْلَمْ أَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ، وَأَنْ الْفَرَجَ مَعَ الْكَرْبِ، وَأَنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا”.

আবূ আব্বাস আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেছেন- একদিন আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে ছিলাম, তিনি আমাকে বললেন:

“হে যুবক! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শেখাবো- আল্লাহকে স্মরণ করবে তো তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন, আল্লাহকে স্মরণ করলে তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন কিছু চাইবে তো আল্লাহর কাছেই চাইবে; যখন সাহায্য চাইবে তো আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রাখ, সমস্ত মানুষ যদি তোমার কোন উপকার করতে চায় তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তা ব্যতীত আর কোন উপকার করতে পারবে না। আর যদি সমস্ত মানুষ তোমার কোন অনিষ্ট করতে চায় তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা ব্যতীত আর কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠা শুকিয়ে গেছে।”

[তিরমিযী: ২৫১৬, হাদীসটি সহীহ্ (হাসান) বলেছেন।]

তিরমিযী ছাড়া অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে:
“আল্লাহকে স্মরণ করবে তো তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে, তুমি স্বচ্ছল অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে তো তিনি তোমাকে কঠিন অবস্থায় স্মরণ করবেন। মনে রেখো- যা তুমি পেলে না, তা তোমার পাবার ছিল না, আর যা তুমি পেলে তা তুমি না পেয়ে থাকতে না। আরো জেনে রাখো- ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করা যায়। কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ আসে। কঠিন অবস্থার পর স্বচ্ছলতা আসে।”

জান্নাতে প্রবেশের এবং জাহান্নাম থেকে দূরে যাবার সৎকর্ম

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قُلْت يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ وَيُبَاعِدْنِي مِنْ النَّارِ، قَالَ: “لَقَدْ سَأَلْت عَنْ عَظِيمٍ، وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ: تَعْبُدُ اللَّهَ لَا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ، ثُمَّ قَالَ: أَلَا أَدُلُّك عَلَى أَبْوَابِ الْخَيْرِ؟ الصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ، وَصَلَاةُ الرَّجُلِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، ثُمَّ تَلَا: ” تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ ” حَتَّى بَلَغَ “يَعْمَلُونَ”، ثُمَّ قَالَ: أَلَا أُخْبِرُك بِرَأْسِ الْأَمْرِ وَعَمُودِهِ وَذُرْوَةِ سَنَامِهِ؟ قُلْت: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ، وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ، وَذُرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ، ثُمَّ قَالَ: أَلَا أُخْبِرُك بِمَلَاكِ ذَلِكَ كُلِّهِ؟ فقُلْت: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ‍! فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ وَقَالَ: كُفَّ عَلَيْك هَذَا. قُلْت: يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ؟ فَقَالَ: ثَكِلَتْك أُمُّك وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ عَلَى وُجُوهِهِمْ -أَوْ قَالَ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ- إلَّا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ؟!” .رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ [رقم:2616] وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

মু’আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:

আমি নিবেদন করি: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কাজ বলুন যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

তিনি বললেন: “তুমি এক বৃহৎ বিষয়ে প্রশ্ন করেছ। এটা তার জন্য খুবই সহজ আল্লাহ্ যার জন্য সহজ করে দেন। তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করো না, নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত দাও, রমযানে রোযা রাখ এবং (কা’বা) ঘরে হজ্জ কর”।

তারপর তিনি বলেন: “আমি কি তোমাদের কল্যাণের দরজা দেখাব না? রোযা হচ্ছে ঢাল, সাদকাহ্ গোনাহেক নিঃশেষ করে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়; আর কোন ব্যক্তির গভীর রাতের নামায”।

তারপর তিনি পড়েন: تتجافي جنوبهم عن المضاجع হতে يعلمون পর্যন্ত। যার অর্থ হলো: “তারা শয্যা পরিত্যাগ করে তাদের রবকে ভয়ে ও আশায় ডাকে এবং আমরা তাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। তাদের কর্মের জন্য যে চক্ষু শীতলকারী প্রতিফল রক্ষিত আছে তা তাদের কেউই জানে না”। [সূরা আস্-সাজদাহ্: ১৬-১৭]

তিনি আবার বলেন: “আমি তোমাদের কর্মের মূল এবং তার স্তম্ভ ও তার সর্বোচ্চ চূড়া বলবো কি”?

আমি নিবেদন করি: হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন।

তিনি বললেন: “কর্মের মূল হচ্ছে ইসলাম, তার স্তম্ভ হচ্ছে নামায এবং তার সর্বোচ্চ চূড়া হচ্ছে জিহাদ”।

তারপর তিনি বলেন: “আমি কি তোমাকে এসব কিছু আয়ত্তে রাখার জিনিস বলবো না”?

আমি নিবেদন করি: হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন।

তিনি নিজের জিভ ধরে বললেন: “এটাকে সংযত কর”।

আমি জিজ্ঞেস করি: হে আল্লাহর নবী! আমরা যা বলি তার হিসাব হবে কি?

তিনি বললেন: “তোমার মা তোমাকে হারাক, হে মু’আয! জিভের উৎপন্ন ফসল ব্যতীত আর কিছু এমন আছে কি যা মানুষকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করে”।

[তিরমিযী: ২৬১৬ এবং তিনি বলেছেন: এটা হাসান (সহীহ্) হাদীস।]

অপরাধ মার্জনা ও মর্যাদা বৃদ্ধির উপায়

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:” ألا أدلكم على ما يمحو الله به الخطايا، ويرفع به الدرجات؟ قالوا: بلى يا رسول الله.
قال إسباغ الوضوء على المكاره، وكثرة الخطا إلى المساجد وانتظار الصلاة بعد الصلاة، فذلكم الرباط “[رواه مسلم: 251]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

“আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের খবর দেব না যার দ্বারা আল্লাহ্ গোনাহ্ মাফ করেন এবং তোমাদের মর্যাদা উন্নত হয়?
সাহাবাগণ বললেন: অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর রাসূল!
তিনি বললেন: তা হচ্ছে- কষ্টের সময়ে সুন্দরভাবে অযূ করা, মসজিদের দিকে বেশী বেশী পদচারণা করা এবং এক নামাযের পর অন্য নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। আর এ হলো জিহাদে প্রতিরক্ষার কাজের ন্যায়।”[মুসলিম: ২৫১]

অন্যায়কে হাত দ্বারা প্রতিহত করা উচ্চমানের ঈমান

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْت رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ: “مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ” .

[رَوَاهُ مُسْلِمٌ رقم:49]

আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“তোমাদের মধ্যে কেউ কোন অন্যায় দেখলে তা সে তার হাত দ্বারা প্রতিহত করবে, যদি তা সম্ভব না হয় তবে মুখ দ্বারা প্রতিহত করবে, তাও যদি না করতে পারে তাহলে অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করবে। আর এ হচ্ছে (অন্তর দিয়ে প্রতিহত করা) দুর্বলতম ঈমান।”[মুসলিম: ৪৯]

স্বামী-স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশকারী কেয়ামতে নিকৃষ্টতম হবে

وعن أَبي سعيد الخدري رضي الله عنه ، قَالَ : قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( إنَّ مِنْ أشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ القِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى الْمَرْأةِ وتُفْضِي إِلَيْهِ ، ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا )) [رواه مسلم: 4/157 ( 1437 ) ( 123 )]আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃকেয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে নিকৃষ্টতম হবে ঐ ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর সাথে শয্যা গ্রহণ করে এবং তার স্ত্রীও তার সাথে শয্যা গ্রহণ করে, তারপর তাদের পরস্পরের মিলন ও সহবাসের গোপন কথা লোকদের নিকট প্রকাশ করে। [মুসলিম: ১৫৭/৪ (১৪৩৭) (১২৩)]

আল্লাহর এবং মানুষের ভালবাসা লাভের উপায়

عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ‍! دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إذَا عَمِلْتُهُ أَحَبَّنِي اللَّهُ وَأَحَبَّنِي النَّاسُ؛ فَقَالَ: “ازْهَدْ فِي الدُّنْيَا يُحِبُّك اللَّهُ، وَازْهَدْ فِيمَا عِنْدَ النَّاسِ يُحِبُّك النَّاسُ” .

[حديث حسن، رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ، رقم: 4102، وَغَيْرُهُ بِأَسَانِيدَ حَسَنَةٍ]

আবুল আব্বাস সাহল বিন সা’দ আস্-সা’ইদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:

“এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কাজ বলুন যা করলে আল্লাহ্ আমাকে ভালবাসেন, লোকেরাও আমাকে ভালবাসে।

তখন তিনি বললেন: দুনিয়ার প্রতি অনুরাগী হবে না, তাহলে আল্লাহ্ তোমাকে ভালবাসবেন; আর মানুষের কাছে যা আছে তার ব্যাপারে আগ্রহী হবে না, তাহলে মানুষও তোমাকে ভালবাসবে।”[ইবনে মাজাহ্: ৪১০২]

 
 
 
 
 
 
 
 

 

মানুষের প্রতিটি গ্রন্থির সাদকাহ্ রয়েছে

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم

“كُلُّ سُلَامَى مِنْ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ، كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيهِ الشَّمْسُ تَعْدِلُ بَيْنَ اثْنَيْنِ صَدَقَةٌ، وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ، وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ، وَبِكُلِّ خُطْوَةٍ تَمْشِيهَا إلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ، وَتُمِيطُ الْأَذَى عَنْ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ”.[رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ: 2989، وَمُسْلِمٌ: 1009]আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:“প্রত্যেহ যখন সূর্য উঠে মানুষের (শরীরের) প্রত্যেক গ্রন্থির সাদকাহ্ দেয়া অবশ্য কর্তব্য। দু’জন মানুষের মাঝে ইনসাফ দেয়া হচ্ছে সাদকাহ্, কোন আরোহীকে তার বাহনের উপর আরোহন করতে বা তার উপর বোঝা উঠাতে সাহায্য করা হচ্ছে সাদকাহ্, ভাল কথা হচ্ছে সাদকাহ্, সালাতের জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপ হচ্ছে সাদকাহ্ এবং কষ্টদায়ক জিনিস রাস্তা থেকে সরানো হচ্ছে সাদকাহ্।”[বুখারী: ২৯৮৯, মুসলিম: ১০০৯]

সৎকর্মশীল গরীবরাও অধিক সৎকর্মের দ্বারা বিত্তবানদের সমান হতে পারে

عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَيْضًا،

“أَنَّ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالُوا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ بِالْأُجُورِ؛ يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي، وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَيَتَصَدَّقُونَ بِفُضُولِ أَمْوَالِهِمْ. قَالَ: أَوَلَيْسَ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ مَا تَصَّدَّقُونَ؟ إنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةً، وَكُلِّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةً، وَكُلِّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةً، وَكُلِّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةً، وَأَمْرٌ بِمَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ، وَنَهْيٌ عَنْ مُنْكَرٍ صَدَقَةٌ، وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ: أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ وِزْرٌ؟ فَكَذَلِكَ إذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلَالِ، كَانَ لَهُ أَجْرٌ”.

[رَوَاهُ مُسْلِمٌ: 1006]

আবূ যর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহর কিছু সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন:

“হে আল্লাহর রাসূল! বিত্তবান লোকেরা প্রতিফল ও সওয়াবের কাজে এগিয়ে গেছে। আমরা নামায পড়ি তারাও সেরকম নামায পড়ে, আমরা রোযা রাখি তারাও সেরকম রোযা রাখে, তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ সদকা করে।
তিনি বলেন: আল্লাহ্ কি তোমাদের জন্য এমন জিনিস রাখেননি যে তোমরা সদকাহ্ দিতে পার। প্রত্যেক তাসবীহ্ (সোবহান আল্লাহ্) হচ্ছে সদকাহ্, প্রত্যেক তাকবীর (আল্লাহু আকবার) হচ্ছে সদকাহ্, প্রত্যেক তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ্) হচ্ছে সদকাহ্, প্রত্যেক তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) হচ্ছে সদকাহ্, প্রত্যেক ভালো কাজের হুকুম দেয়া হচ্ছে সদকাহ্ এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত করা হচ্ছে সদকাহ্। আর তোমাদের প্রত্যেকে আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও হচ্ছে সদকাহ্।
তারা জিজ্ঞাসা করেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কেউ যখন যৌন আকাঙ্খা সহকারে স্ত্রীর সাথে সম্ভোগ করে, তাতেও কি সওয়াব হবে?
তিনি বলেন: তোমরা কি দেখ না, যখন সে হারাম পদ্ধতিতে তা করে, তখন সে গোনাহ্গার হয় কি না! সুতরাং অনুরূপভাবে যখন সে ঐ কাজ বৈধভাবে করে তখন সে তার জন্য প্রতিফল ও সওয়াব পাবে।”

[মুসলিম: ১০০৬]

রোযাদারকে ইফতার করালে রোযার সমান সওয়াব

عن زَيدِ بنِ خالدٍ الجُهَنيِّ قَالَ:

 – قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: “مَنْ فَطَّرَ صَائِماً كَانَ لَهُ مِثلَ أَجرِهِ غَيرَ أَنَّهُ لا يَنقُصُ من أَجرِ الصَّائِمِ شيئاً”.

رواه الترمذي: 3/171 رقم: 807، قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حديثٌ حسنٌ صحيحٌ.

 যায়েদ ইবনে খালেদ আলজুহানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

“যে ব্যক্তি রোযাদারকে ইফতার করাবে সে রোযাদারের সমান সওয়াব পাবে এবং রোযাদারের সওয়াবও কোন ক্ষেত্রে কম হবে না।”[তিরমিযী: ৩/১৭১, নং- ৮০৭, আবূ ঈসা বলেন হাদীসটি হাসান সহীহ্।]

নামায, রোযা ও সদকা পরিবার, সম্পদ ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে কাফফারা:

عن حذيفة رضي الله عنه  قال: أنا سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: فتنة الرجل في أهله وماله وجاره، تكفرها الصلاة والصيام والصدقة  .[رواه البخاري: 1895 ومسلم: 144]

 হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “মানুষের পরিবার, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে ঘটিত বিভিন্ন ফিৎনা ও গোনাহের কাফ্ফারা হলো নামায, রোযা ও সদকাহ্।” [বুখারী: ১৮৯৫, মুসলিম: ১৪৪]

আল্লাহর পথে ১ দিনের রোযার প্রতিদান

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ

سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَعَّدَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنْ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا . [رواه البخاري: 2840، ومسلم: 1153، والترمذي والنسائي]

 আবূ সাঈদ আলখুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাআহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:

“যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন মাত্র রোযা রাখবে সেই বান্দার চেহারাকে আল্লাহ্ (ঐ রোযার বিনিময়ে) জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের পথ পরিমাণ দূরত্বে রাখবেন।” [বুখারী: ২৮৪০, মুসলিম: ১১৫৩, তিরমিযী, নাসাঈ]

রোযা রাখ, কারণ এর সমতুল্য কিছু নেই

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قُلْتُ

يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِعَمَلٍ قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عَدْلَ لَهُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِعَمَلٍ قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عِدْلَ لَه . [رواه النسائي: 7/408 الشاملة: 2193]

আবূ উমামাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কোন আমলের আজ্ঞা করুন; (‘যদ্দ্বারা আল্লাহ্ আমাকে লাভবান করবেন’। অথবা অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে যেতে পারব’।) তিনি বললেন: “তুমি রোযা রাখ, কারন এর সমতুল্য কিছু নেই।’ পুনরায় আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কোন আমলের আদেশ করুন।’ তিনিও পুনরায় ঐ কথাই বললেন: “তুমি রোযা রাখ, কারন এর সমতুল্য কিছু নেই’।”[নাসাঈ: ৭/৪০৮, সহীহ্ ইবনে খুযাইমা, হাকেম, সহীহ্ তারগীব-আলবানী: ৯৭৩]

মুসলমান ও আহলে কিতাবের রোযার মধ্যে পার্থক্য

عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَر .

আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আমাদের (মুসলমানদের) রোযা ও আহলে কিতাবদের রোযার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সেহরী খাওয়া।” (অর্থাৎ, আহলে কিতাবরা সেহরী খায় না; কিন্তু মুসলমানরা খায়।) [মুসলিম: ১০৯৬]

 অন্য এক হাদীসে এসেছে-

আহলে কিতাবরা ইফতার করে দেরী করে, পক্ষান্তরে মুসলমানগণ সূর্য ডোবামাত্র তড়িঘড়ি ইফতার করে থাকে। [আবু দাউদ, হাকেম, ইবনে হিব্বান, সহীহুল জামেঈস্ সগীর-আলবানী: ৭৬৮৯]

অগ্রিম মসজিদে যাওয়ার ফযীলত

عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

“…….لو يعلمون ما في التهجير لاستبقوا إليه……”

[رواه البخاري: 615 ومسلم: 981]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

“আর তারা যদি জানতো অগ্রিম নামাযে আসার ফযীলত কত বেশী, তাহলে অবশ্যই তারা আগেই (নামাযের জন্য) আসতো।”[বুখারী: ৬১৫, মুসলিম: ৯৮১]

মিসওয়াক বা দাঁতন করার গুরুত্ব

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلَاةٍ

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:“আমার উম্মাতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সময় দাঁতন (মেসওয়াক) করার নির্দেশ করতাম।”[বুখারী: ৮৮৭, মুসলিম: ৫৮৯]

ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয়

عَنْ أَبِي ذَرٍّ جُنْدَبِ بْنِ جُنَادَةَ، وَأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ:

“اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْت، وَأَتْبِعْ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا، وَخَالِقْ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ”.

[رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ: 1987  وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ، وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ: حَسَنٌ صَحِيحٌ]

আবূ যার জুনদুব বিন জুনাদাহ্ এবং আবূ আব্দুর রহমান মু’আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত আছে, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

“তুমি যেখানে যে অবস্থায় থাক না কেন আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভাল কাজ কর, যা তাকে মুছে দেবে; আর মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর।”

[তিরমিযী: ১৯৮৭, এবং (তিরমিযী) বলেছেন যে, এটা হচ্ছে হাসান হাদীস। কোন কোন সংকলনে এটাকে সহীহ্ (হাসান) বলা হয়েছে।]

Responses

  1. very good.It helps me to enrich my knowledge about islam.jajakallah.

  2. can not understand bangla properly as the words are pretty small and not clear. Other than that its wonderful box of knowledge. May Allah bless us all. Ameen


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: